প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে সরকার। সারা দেশে খালের সব প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে সঠিকভাবে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং খাল পুনরুদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। শনিবার (৭ মার্চ, ২০২৬) সকালে রাজধানীর মুগদা থানাধীন মান্ডা এলাকায় খাল পরিদর্শন শেষে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব মান্ডা খালের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বলেন, "খালের সব প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে প্রবাহ সচল করা হবে। কেউ যদি অবৈধ দখলদারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তবে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না; সরাসরি আইনের আওতায় আনা হবে।" তিনি আরও জানান, খাল যেন পুনরায় ভরাট বা দখল না হয়, সেজন্য খালের দুপাশে ওয়াকওয়ে (চলাচলের পথ) নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে এই তদারকির কাজ করবে।
ঢাকার খালের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে ঢাকা ছিল খালের শহর। জালের মতো ছড়িয়ে থাকা এসব খাল দিয়ে একসময় নৌকা চলত এবং বৃষ্টির পানি অনায়াসেই নদীতে চলে যেত। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের সময়ও ঢাকার মান্ডা, ধোলাইখাল ও বেগুনবাড়ী খাল ছিল প্রবহমান।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে আশির দশক থেকে খাল দখল শুরু হয়। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারগুলো খাল উদ্ধারের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা দখলদারদের কবজায় চলে যায়। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বক্স কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে অনেক প্রাকৃতিক খালকে ‘মৃত’ ঘোষণা করা হয়েছে বলে পরিবেশবাদীরা মনে করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ রাষ্ট্র সংস্কারের যে জোয়ার শুরু হয়েছে, তার অংশ হিসেবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রীর আজকের এই পরিদর্শন মূলত গত সাত দশকের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানের একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৫০ সালে যেখানে খাল ছিল যাতায়াতের মাধ্যম, ২০২৬ সালে তা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নেমেছে বর্তমান প্রশাসন।
মান্ডা ও মুগদা এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় ভুগছেন। প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণায় স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়, খালের সীমানা নির্ধারণ করে স্থায়ীভাবে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে, দেশের চলমান সংকট নিয়ে কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এখন সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে জনজীবন স্বাভাবিক রাখা যায়।
সূত্র: ১. সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় প্রেস উইং (০৭ মার্চ ২০২৬)।
২. ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান রিপোর্ট।
৩. জাতীয় আর্কাইভস: ঢাকার খাল ও জলাশয় সংরক্ষণের ইতিহাস (১৯৫০-২০২৪)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |